কথা সাহিত্য কিংবা গান সবক্ষেত্রে খানিক ভিন্ন পথে হাঁটার কাজটিই করেন আমিরুল মোমেনীন মানিক। তাই তার গ্রন্থ প্রকাশের ক্ষেত্রেও এই বৈচিত্র দেখা যায়। এবারের বইমেলায় মানিকের ‘সাংবাদিক সাংঘাতিক’ নিয়ে কৌতুহল ! বাংলা একাডেমি বইমেলায় সাহিত্য, সঙ্গীত ও সংবাদকর্মী আমিরুল মোমেনীন মানিকের নতুন বই ‘সাংবাদিক সাংঘাতিক’ নিয়ে পাঠক মহলে তৈরী হয়েছে ব্যতিক্রমী কৌতুহল। বইটি ঘিরে লেখক বেশ কিছু প্রশ্ন ছুঁড়েছেন পাঠক মহলে। প্রশ্নগুলো এরকম: আমিরুল মোমেনীন মানিকের সাক্ষাৎকার নিয়ে কেন ছাপা হলো চলচ্চিত্র পরিচালক এফআই মানিক নাম ও ছবি দিয়ে । ৫ কোটি টাকা ঘুষের অফার কেন ফিরিয়ে দিলেন এক সাংবাদিক ? সাংবাদিক কখন সাংঘাতিক হন? বিভিন্ন পত্রিকা ও টিভির  কিছু সংখ্যক জেলা প্রতিনিধি বেতন না পেয়েও গাড়ী নিয়ে চলেন, কিভাবে সম্ভব ? কতিপয় সাংবাদিকের প্রশ্রয়ের কারণে বন্ধ হচ্ছেনা অনিয়ম, কারা তারা? রাজনীতি করা ছাড়া সাংবাদিকতার পরিচয় কেন মূল্যহীন হয়ে পড়েছে ? টেলিভিশনের টক-শো এখন পরিণত হয়েছে ক্যাশবাক্সে, কেন?

সাংবাদিক-সাংঘাতিক, প্রকাশ করেছে কালো প্রকাশনী বাংলা একাডেমি প্রাঙ্গণের ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির ৭৩ নম্বর স্টলে। এছাড়া রকমারি ডট কম থেকে শুরু করে একাধিক অনলাইন প্লাটফর্মে মানিকের বই পাওয়া যাবে সবসময়।  এরই মধ্যে আমিরুল মোমেনীন মানিকের ৯টি বই বেরিয়েছে। সমাজের অসঙ্গতি ও বাস্তবতা তিনি তুলে ধরেন সমকালীন ব্যঙ্গ-বিদ্রুপের মাধ্যমে। তাঁর লেখা অন্য বইগুলো হলো: সুর-সঞ্চারী (২০০২), ইবলিস (২০০৫), ব্লাডি জার্নালিস্ট (২০০৮), বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় স্টুপিড শিক্ষক (২০১২), রাজনীতির কালো শকুন (২০১৩), বঙ্গবীর এক্সপ্রেস (২০১৪), জনচাকর(২০১৫), মুখোশপরা মুখ (২০১৫), খবরের ফেরিওয়ালা (২০১৬)। ২০১২ সালের বইমেলায় ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের কতিপয় স্টুপিড শিক্ষক’ তরুণদের মধ্যে সর্বোচ্চ বিক্রিত বই। বর্তমানে তিনি মাই টিভির বার্তা সম্পাদক। সাংবাদিকতার বাইরে টক-শো উপস্থাপনা এবং খবর পাঠ করেন। আমিরুল মোমেনীন মানিক ইতোমধ্যে জীবনমুখী ও ব্যতিক্রমী গানের কণ্ঠশিল্পী হিসেবে শক্ত অবস্থান তৈরী করেছেন । এ পর্যন্ত তাঁর ৮টি এ্যালবাম প্রকাশিত হয়েছে। অবাক শহরে [ ২০১৩], আয় ভোর [২০১৫] ও মা [২০১৫]-এই ৩টি গানের এ্যালবামের মাধ্যমে পরিচিতি পান মানিক।

নচিকেতার সঙ্গে তাঁর গাওয়া গান ‘আয় ভোর’, বাংলাদেশ ছাড়াও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ ও ত্রিপুরায় ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। কাজের স্বীকৃতি হিসেবে তিনি পেয়েছেন বেশ কয়েকটি এ্যাওয়ার্ড। উল্লেখযোগ্য হলো: রয়টার্স মেকিং টিভি নিউজ এ্যাওয়ার্ড, ইউনেস্কো ক্লাব জার্নালিজম এ্যাওয়ার্ড, উদীচী ইতিহাস প্রতিযোগিতা পুরস্কার, সাঁকো এ্যাওয়ার্ড, ভিন্নমাত্রা এ্যাওয়ার্ড, শের-ই বাংলা স্বর্ণপদক, আরশীকথা সম্মাননা (ত্রিপুরা, ভারত), ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি লেখক সম্মাননা। আমিরুল মোমেনীন মানিক, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটি এবং ল’ রিপোর্টার্স ফোরামের স্থায়ী সদস্য। নিজের লেখালেখি প্রসঙ্গে মানিক বলেন, ‘নিজের সৃজনশীল কাজের জন্যই প্রতিদিন বেঁচে থাকি। তাই আমার লেখা লেখি আর গান দিয়েই নিজের দর্শন উপস্থাপন করতে চাই।

More Details: http://www.ittefaq.com.bd/boimela/2017/02/27/105791.html